নয়াদিল্লি, ৩ অগস্ট:গত এক দশকে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় এক উল্লেখযোগ্য এবং উদ্বেগজনক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে, গত দশ বছরে দেশজুড়ে প্রায় ৯৪ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই বিপুল পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আলোচ্য সময়কালে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২৫টি করে সরকারি স্কুল বন্ধ হয়েছে। এই ব্যাপক হারে স্কুল বন্ধ হওয়ার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির হারের ওপর। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সরকারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়া ভর্তির সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২৬ লক্ষ হ্রাস পেয়েছে বলে ওই রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি স্কুলগুলির প্রতি পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের অনীহা বা সরকারি পরিকাঠামোর সংকোচনের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলগুলির বিস্তারও এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৫ সালে যেখানে সরকারি স্কুলে মোট ভর্তির হার ছিল ৭১ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯.২৪ শতাংশে। এর ঠিক বিপরীতে, গত এক দশকে দেশে ৫০ হাজারের বেশি নতুন বেসরকারি স্কুল গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এবং রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, একদিকে সামগ্রিক জন্মহার হ্রাস এবং অন্যদিকে একাধিক সরকারি স্কুলকে একত্রিত করার নীতি বা কনসোলিডেশনের কারণে সামগ্রিকভাবে স্কুলে ভর্তির হার এই মাত্রায় কমেছে।
নীতি আয়োগের এই রিপোর্ট বিশেষ করে গ্রামীণ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় প্রবেশের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সরকারি স্কুল বন্ধ হওয়ার ফলে এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বাড়ির কাছের স্কুলে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে পড়ার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক সামাজিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই সংকটজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নীতি আয়োগের রিপোর্টে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি বা এনইপি-র নির্দেশিকা মেনে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখার জন্য নানাবিধ কার্যকর কৌশল বা রিটেনশন স্ট্র্যাটেজি গ্রহণের কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
