নয়াদিল্লি, ১১ অগাস্ট:
পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা পরিষ্করণ বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে গণহারে সাধারণ নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যবেক্ষণ জানাল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। লাইভল ইন্ডিয়া-এর আইনি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে জমা পড়া আপিলগুলো নিষ্পত্তির জন্য আপিল ট্রাইব্যুনাল বা বিচারবিভাগীয় বেঞ্চগুলোর ওপর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা চাপিয়ে দিতে শীর্ষ আদালত সরাসরি অস্বীকার করেছে। তবে আপিলগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যে ব্যাপক দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে, তা নিরসনে শীর্ষ আদালত ওই ট্রাইব্যুনালগুলোর সার্বিক কর্মক্ষমতা এবং তাদের লজিস্টিক বা পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাতে সম্মত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে এই আপিল নিষ্পত্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং নিখুঁত পরিসংখ্যান জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত এবং আইনি মহলের খবর অনুযায়ী, এই মামলার প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্টের একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট তাদের পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, প্রায় ৩৪ লক্ষ বিচারাধীন মামলার ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ায় আনুমানিক ২১ বছর পর্যন্ত দীর্ঘসূত্রিতা বা বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিকের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ দীর্ঘকাল ধরে অমীমাংসিত পড়ে থাকার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। কলকাতা হাইকোর্টের সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে যে, এত বিশাল সংখ্যক আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালগুলো ঠিক কী গতিতে কাজ করছে এবং এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে কমিশনের কাছে কী ধরনের রূপরেখা রয়েছে।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ পিটিশনের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা টাইমলাইন নির্ধারণ করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল, যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকরা দ্রুত ন্যায়বিচার পান। কিন্তু শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় এহেন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এর পরিবর্তে শীর্ষ আদালত আপিল নিষ্পত্তির পরিমাণের বা ডিসপোজাল ভলিউমের ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি মামলার চূড়ান্ত ফলাফল কী হচ্ছে তার চেয়েও বড় কথা হলো, ট্রাইব্যুনালগুলো ঠিক কত দ্রুত এবং কত বেশি সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি করতে পারছে, আদালত প্রধানত সেই পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবে।
এর পাশাপাশি, এই মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপিত হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে অনেক সাধারণ নাগরিক বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা বেনিফিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মুহূর্তে মামলাটিকে বৃহত্তর পরিসরে প্রসারিত করতে বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চনার বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, বর্তমান আইনি প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধন এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজকর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নির্বাচন কমিশনকে আপিল নিষ্পত্তির সম্পূর্ণ ডেটা বা পরিসংখ্যান প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে আগামী ২৫ অগাস্ট তারিখটি ধার্য করেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

