জোশীমঠ, ১১ অগাস্ট:
উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠ সংলগ্ন নিতি উপত্যকায় মেঘভাঙা বৃষ্টিতে আবারও ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। জোশীমঠ শহর থেকে আনুমানিক পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তমক নামক স্থানে তমক খাদের কাছে এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের ঘটনাটি ঘটেছে। আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট হড়পা বান এবং জলের প্রবল তোড়ে ওই এলাকায় ব্যাপক পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে যে, প্রবল জলোচ্ছ্বাস এবং বন্যার কারণে তমক খাদের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতু জলের তোড়ে সম্পূর্ণভাবে ভেসে গিয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ওই বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, তমক খাদের ওপর যে সেতুটি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে, সেটি একটি নবনির্মিত বেইলি ব্রিজ ছিল। পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি এই ইস্পাতের বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই একই স্থানে এর আগেও একটি সিমেন্ট বা কংক্রিটের তৈরি মজবুত সেতু ছিল। কিন্তু অতীতের একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সেই কংক্রিটের সেতুটিও একইভাবে জলের প্রবল তোড়ে ভেসে গিয়েছিল। পুরনো সেতুটি ধ্বংস হওয়ার পর ওই গুরুত্বপূর্ণ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার জরুরি উদ্দেশ্যেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই নতুন বেইলি ব্রিজটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, প্রকৃতির রুদ্ররোষের সামনে সেই নবনির্মিত সেতুটিও টিকতে পারল না। বারবার একই স্থানে পরিকাঠামোগত ধ্বংসের এমন ঘটনা পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক দুর্বলতা এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির ভয়াবহতাকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধুমাত্র রাস্তা বা সেতুর মতো পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিই হয়নি, মানুষের প্রাণহানিরও প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট এই প্রবল জলের তোড়ে এক বা একাধিক যানবাহন ভেসে যাওয়ার অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্তত একটি বা দুটি গাড়ি এই জলোচ্ছ্বাসের শিকার হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো, জলের তোড়ে ভেসে যাওয়া একটি গাড়ির চালক সহ গাড়িটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিখোঁজ রয়েছে। হঠাৎ করে ধেয়ে আসা এই অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের মুহূর্তে ওই চালক তাঁর গাড়ি নিয়ে তমক এলাকাটি পার হচ্ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। নিখোঁজ গাড়ির চালক এবং ওই অন্যান্য যানবাহনগুলোর বর্তমান পরিণতি ঠিক কী হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
বারংবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিতি উপত্যকার এই তমক এলাকায় এমন ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং তার ফলে সৃষ্ট হড়পা বানের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নবনির্মিত বেইলি ব্রিজটির আর কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই। পাহাড়ি নদীর স্রোত এবং কাদার ঢল চোখের নিমেষে ওই ইস্পাতের সেতুটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। নিখোঁজ গাড়ির চালক এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত যানবাহনগুলোর সন্ধানে এই মুহূর্তে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে জোশীমঠ থেকে বহু দূরে অবস্থিত এই প্রত্যন্ত ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এমন বিপর্যয় স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা এবং জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে এক বিশাল ও বিপজ্জনক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। এই চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয় আগামী দিনগুলোতে ওই এলাকার মানুষের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছ।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

