হিন্দু কি গো মাংসও ভক্ষণ করে? ধ্রুব রাঠির এই শিরোনামের ভিডিও ভারতে অবরুদ্ধ করল ইউটিউব

হিন্দু কি গো মাংসও ভক্ষণ করে? ধ্রুব রাঠির   এই শিরোনামের ভিডিও ভারতে অবরুদ্ধ করল ইউটিউব

নয়াদিল্লি, ১১ অগাস্ট:

জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির গত ২১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিতর্কিত ভিডিওটি আপাতত কেবল ভারতের ব্যবহারকারীদের জন্য বন্ধ বা জিও-ব্লক করা হয়েছে বলে দিল্লি হাইকোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। “ক্যান হিন্দুস ইট বিফ? | কেরালা স্টোরি ২ এক্সপোজড” শীর্ষক ওই ভিডিওটির বিশ্বব্যাপী সম্প্রচার বা গ্লোবাল ইনজাংশনের আবেদনটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের একটি উচ্চতর ডিভিশন বেঞ্চের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। সেই কারণে মূল মামলার চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউটিউব কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র ভারতীয় ব্যবহারকারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত বা জিও-ব্লক করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে আদালতকে অবহিত করেছে।

আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশিষ্ট আইনজীবী অমিতা সচদেবা ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে এই আইনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলাকারীর মূল অভিযোগ ছিল, আলোচিত ওই ভিডিওতে প্রাচীন বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ এবং ঐতিহাসিক শাস্ত্রের ভুল তথ্য পেশ করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছিল যে ভগবান রাম, দেবী সীতা এবং ভগবান কৃষ্ণের মতো হিন্দু ধর্মে পূজিত দেব-দেবীরা অতীতে নিয়মিত মাংস এবং মদ্যপান করতেন। আবেদনকারী আদালতে যুক্তি দেন যে, এই জাতীয় মনগড়া এবং বিতর্কিত মন্তব্য কোটি কোটি সাধারণ হিন্দু পুণ্যার্থীর ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগে গভীর আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে এটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি সামাজিক অবমাননা এবং চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মামলায় দাবি করা হয়।

এই ঘটনা সামনে আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে মামলাকারী সরাসরি ইউটিউবের অভ্যন্তরীণ নালিশ বা গ্রিভেন্স পোর্টালে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় প্রযুক্তি সংস্থা ইউটিউব অভিযোগটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এবং প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নিতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আবেদনকারী দিল্লি হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিভেন্স অ্যাপেলেট কমিটি বা জিএসি বিষয়টিতে কড়া আইনি ভূমিকা গ্রহণ করে। গত ২০২৬ সালের জুলাই মাসে জিএসি একটি বিশেষ আদেশ জারি করে নির্দেশ দেয় যে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি ওই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে হবে।

তবে বর্তমানে এই মামলার শুনানিতে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর আইনি দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা কতটুকু, তা নিয়ে নতুন আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন বা আইটি রুলস-এর অধীনে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা এবং তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রমের মধ্যকার পার্থক্য এতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মামলাকারী আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, এই ধরণের আপত্তিকর সামগ্রী কেবল ভারতের মাটিতে সীমাবদ্ধ রাখাই যথেষ্ট নয়, বরং সারা বিশ্বজুড়ে সব দেশের প্ল্যাটফর্ম থেকে তা সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার বৈশ্বিক নির্দেশ জারি করা উচিত।

অন্যদিকে ইউটিউবের পক্ষ থেকে আইনজীবী আদালতে যুক্তি দিয়েছেন যে, ভারতের বিদ্যমান আইনি পরিকাঠামো রক্ষা করে তারা ইতিমধ্যে দেশটির ভৌগোলিক সীমানায় ভিডিওটির সম্প্রচার পুরোপুরি বন্ধ বা জিও-ব্লক করেছে। বিশ্বজুড়ে কোনো কনটেন্ট সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নীতিমূলক প্রশ্ন হাইকোর্টের একটি পৃথক ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন থাকার কারণে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভূ-অবরোধ বা ভৌগোলিক সীমানায় বিধিনিষেধ আরোপ করাই যথেষ্ট নিয়ম পালন বলে তারা দাবি করেছে। আদালত উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি শোনার পর বিষয়টি বিচার্য প্রক্রিয়ার অধীনে রেখেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply